করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কোভিড সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সুপারিশ দিলে চলমান বিধি-নিষেধের মেয়াদ বাড়তে পারে।
মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যু হু হু করে বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারিগরি কমিটির পরামর্শে ১ জুলাই থেকে লকডাউন জারি করে সরকার।
এই সময় ধরে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে, বন্ধ রয়েছে অফিস-আদালত। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কারও বের হতেও বারণ রয়েছে।
তার মধ্যেই গত ছয় দিনের পাঁচ দিনই দেশে ১১ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। রোববার রেকর্ড ১১ হাজার ৮৭৪ রোগী শনাক্ত হয়। সর্বাধিক ২৩০ মৃত্যুর রেকর্ডও হয় এদিন।
প্রাথমিকভাবে ৭ জুলাই পর্যন্ত এই লকডাউন জারি হলেও পরে তা ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তার এক সপ্তাহ পরই কোরবানির ঈদ। ঈদের সময় লকডাউন উঠে যাবে বলে অনেকে আশা করলেও পরিস্থিতি ভিন্ন দেখাচ্ছে।
খালিদ মাহমুদ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “যদি করোনা–সংক্রান্ত কারিগরি পরামর্শক কমিটি পরামর্শ দেয়, তাহলে চলমান বিধিনিষেধ আরও এগিয়ে নেওয়া হতে পারে।”
“বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে, তাতে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার মতো জায়গায় পৌঁছানো যায়নি,” মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি করুণ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ঈদের আগে গণপরিবহন চলবে কি না- জানতে চাইলে খালিদ বলেন, “যদি বিধি-নিষেধ চলমান থাকে, তাহলে সেই সুযোগ নেই। আর যদি বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে কীভাবে. . . সীমিত আকারে গণপরিবহন চলবে।”
জরুরি সেবার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফেরি চলাচল অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
নৌ প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৪ জুলাই থেকে সমুদ্র ও স্থলবন্দরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া হবে।