রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন

হজরত আয়েশার বিয়ে ও বয়স

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৪ জন নিউজটি পড়েছেন

(গত সংখ্যার পর)
খাদিজা ছিলেন মহানবী সা:-এর প্রধান সহায়ক এবং তিনি তাঁকে সান্ত¡না ও উৎসাহ দেন। যা হোক, খাওলা রাসূলের কাছে যান এই প্রস্তাব নিয়ে যে তার একজন নতুন স্ত্রী প্রয়োজন। তিনি আগ্রহ দেখালে খাওলা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন : ‘আপনি কী একজন পরিণত মহিলা অথবা একজন কুমারী মেয়েকে পছন্দ করেন?’ খাওলার মনে কী আছে তা রাসূল সা: তাকে জিজ্ঞাসা করেন। খাওলা বলেন : ‘পরিণত মহিলা হলেন সওদা বিনতে জিম’য়া এবং কুমারী মেয়ে হলেন আপনার বন্ধুর কন্যা আয়েশা।’ রাসূল তাঁকে উভয়ের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দিতে বলেন। এর পরপরই রাসূল সা: সওদাকে বিয়ে করেন এবং তিন বছর পর অর্থাৎ মদিনায় হিজরত করার পর তিনি আয়েশাকে বিয়ে করেন।
খাওলা যখন আবু বকরের রা: কাছে ওই প্রস্তাব নিয়ে যান তখন তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, জুবায়র ইবন মুত’ইমের সাথে আয়েশার বাগদান তিনি ছিন্ন করবেন। এটা উল্লেখ করার বিষয় যে, রাসূল সা: বা আবু বকর রা: ও পরিবারের কেউ বলেননি যে আয়েশা বিয়ের জন্য কমবয়সী (অর্থাৎ তার বিয়ের বয়স হয়নি)। অথচ রাসূল সা: দু’বার এ ধরনের মন্তব্য করেন, যখন তাঁর দু’জন সাহাবি তার কনিষ্ঠা কন্যা ফাতেমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব করেন। এখন প্রশ্ন হলো : স্ত্রী মারা যাওয়ার পর রাসূলের ওপর এর ফলাফল অনুধাবন করে দূরদর্শী মুসলিম মহিলা খাওলা কী ছয় বছর বয়স্কা একজন শিশুকে বিয়ে করার জন্য তার কাছে প্রস্তাব করেছেন যিনি তার চার কন্যার মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠা কন্যার চেয়েও বয়সে কয়েক বছরের ছোট? এ ধরনের একজন শিশু কিভাবে খাদিজার ক্ষতিপূরণ করতে পারেন? এটাই কী অধিক বিশ্বাসযোগ্য নয় যে, তিনি যদি রাসূলের সা: গৃহে আসেন তাহলে তিনি রাসূলের ওপর অতিরিক্ত বোঝা হবেন? তবু খাওলা কল্পনা করেননি যে, রাসূল আয়েশাকে পছন্দ করলে বিয়ে বিলম্বিত করা হবে। তিনি এমন কিছু প্রস্তাব করেছিলেন যা বিলম্ব ছাড়াই কার্যকর হবে, যেমন ঘটেছিল সওদার ক্ষেত্রে।
তাছাড়া, যখন তিনি প্রস্তাব করেছিলেন তখন তার কোনো ধারণা ছিল না যে রাসূল সা: উভয় মহিলাকে বিয়ে করার জন্য পছন্দ করবেন। খাওলা এমন এক প্রস্তাব নিয়ে আসেন যা কোনো চিন্তাশীল ও পরিপক্ব মহিলা করতে পারেন, অর্থাৎ রাসূল এমন কাউকে বিয়ে করবেন যিনি তাঁকে এমন সান্ত¡না দিতে পারেন যা খাদিজা দিতেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত তালিকায় দু’জনের নাম ছিলÑ তাদের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে পছন্দ করা যেতে পারে। এটা যদি সত্য হয় যে, আয়েশার বয়স তখন ছয় বছর ছিল, তাহলে ওই সময় ও প্রেক্ষাপটে তার নাম উল্লেখ একেবারে অস্বাভাবিক ছিল। ছয় বছরের একজন মেয়ের প্রয়োজন তার প্রতি যতœ নেয়ারÑ ইতিহাসে অত্যন্ত কষ্টকর কাজে নিয়োজিত একজন লোকের যতœ নেয়ার জন্য দায়িত্ব গ্রহণ নয়। এ কথা সবসময় স্মরণ রাখতে হবে যে, ওই সময় আয়েশার বয়স যদি ছয় বছর হতো তাহলে তিনি রাসূলের সব কন্যার মধ্যে কনিষ্ঠা কন্যার চেয়েও বয়সে কনিষ্ঠা হতেনÑ রাসূলের সা: সব কন্যার মধ্যে তখনো দুই কন্যা তাঁর সাথে বসবাস করতেন।
আয়েশার বয়সের আরেকটা যোগসূত্র হলো তাঁর ইসলাম গ্রহণের সময়কাল। রাসূলের বিস্তারিত জীবনীগ্রন্থে ইবন ইসহাক ‘প্রাথমিক দিনগুলিতে যেসব লোক আল্লাহর বাণীবাহকের বাণী গ্রহণ করেন’ শিরোনামে একান্নজনের নাম উল্লেখ করেন। এ তালিকায় কোনো শিশুর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আলী যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল দশ অথবা বারো। তাঁর নাম ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ওই তালিকায় যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাঁদের মধ্যে বহুসংখ্যক ছিলেন রাসূলের সাহাবি এবং তারা ইসলামের বাণী প্রচার শুরু হওয়ার পঞ্চম বছরে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। ওই সময় হিজরতকারীর সংখ্যা ছিল ১০১ জন, আর সব মুসলিমের সংখ্যা ছিল ২০০ জনের মতো। সুতরাং ধরে নেয়া যায় যে, তালিকায় যেসব লোকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা ইসলাম প্রচারের পঞ্চম বছরের আগেই ইসলাম গ্রহণ করেন। ওই তালিকার আঠারো এবং উনিশ ক্রমিক নম্বরে উল্লেখিত নাম হলো ‘আসমা বিনতে আবু বকর এবং তাঁর বোন আয়েশা, যিনি ওই সময় কমবয়সী ছিলেন’ (ওই মন্তব্য হলো ইবন ইসহাকের)।
তালিকায় নামের অন্তর্ভুক্তির ক্রমধারার গুরুত্ব আমরা উপেক্ষা করতে পারি, কিন্তু এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, আয়েশা হলেন একমাত্র কমবয়সী ব্যক্তিত্ব যার নাম ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিয়ের সময় যদি তাঁর বয়স ৯ বছর হয়ে থাকে তাহলে আমরা যে সময়ের কথা আলোচনা করছি সেই সময়ে তাঁর বয়স হতো এক বছর। আমাদের মন্তব্য করার কোনো প্রয়োজন নেই। যা হোক, অনেক সাক্ষ্যপ্রমাণ আছে যে আয়েশা ইসলাম গ্রহণ করেন ইসলাম প্রচারের প্রাথমিক পর্যায়ে। আমরা যদি ধরে নেই যে, ইসলাম গ্রহণের সময় তাঁর বয়স ছিল দশ বছর এবং ইসলাম প্রচারের পঞ্চম বছরেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তাহলে বিয়ের সময় তাঁর বয়স হয় উনিশ বছর। তবু ইবন ইসহাক হয়তো বারো বছর বয়সের আয়েশার ইসলাম গ্রহণের কথা বলেন তার পিতামাতার ইসলাম গ্রহণের পরপরই। এ ক্ষেত্রে বিয়ের সময় তাঁর বয়স হয় কুড়ি বছরের চেয়ে কয়েক বছর বেশি। এটা যদি সত্য হয় যে, বিয়ের সময় আয়েশার বয়স ছিল নয় বছর তাহলে রাসূলের মদিনায় হিজরতের সময় তাঁর বয়স ছিল আট বছর। রাসূল যখন মদিনায় হিজরত করেন তখন তার পিতা আবু বকর রাসূলের সা: সাথে ছিলেন।
(এরপর আগামীকাল)

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English