শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

হাটে শেষ সময়ে প্রচুর বেচা-কেনা, স্বস্তি গো-খামারে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০
  • ৪৭ জন নিউজটি পড়েছেন

মানিকছড়ি কোরবানির পশু হাটে শেষ সময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে বেচা-কেনা বেড়ে যাওয়ায় গো-খামারির মনে স্বস্তি এসেছে। বেশি লাভবান না হলেও কাউকেই লোকসানের বোঝা মাথায় নিতে হয়নি। ফলে ডেইরি শিল্প ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন জাগছে এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় গো-খামার সংশ্লিষ্ট মহলে।

প্রতি বছর ঈদুল আজহার কোরবানিকে টার্গেট নিয়ে পার্বত্য জনপদ খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ঘরে ঘরে কৃষক পরিবারগুলো কম-বেশি দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের গরু মোটাতাজা করে থাকেন। প্রাকৃতিক সবুজ ঘাস, খেড় ও খড়কুটোতে বেড়ে উঠা এসব গরুর গোস্তে প্রচুর শাস থাকায় এর চাহিদা সমতল ও জনপদে বেশি। ফলে এখানকার পশুহাটে ক্রেতা-বিক্রেতার জমজমাট আসর জমে উঠে। এখানাকার ছোট-বড় কৃষি পরিবারের পাশাপাশি উপজেলায় ইতোমধ্যে ছোট, মাঝারি ও বড় ৩৯টি গো-খামার গড়ে উঠেছে। আর এতে লালন-পালন হয়েছে কয়েক হাজার গরু। এছাড়া প্রতিটি কৃষক পরিবারে ৮/১০টি গরু লালন-পালন স্বাভাবিক ঘটনা। এসবের পাশাপাশি এখানকার স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা এ খাতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে দূর্গম এলাকায় মানুষের নিকট গরু বর্গায় লালন-পালন করেন। কোরবানির ঈদ এলে এসব গরু বাজারজাত করা হয়। যার ফলে এ অঞ্চলে গো ব্যবসা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। গড়ে উঠেছে অসংখ্য গো-খামার।

তবে বৈশ্বিক মহামারী ও প্রাণঘাতি ‘করোনা’ ভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবার খামার ও বাসাবাড়িতে মোটাতাজা করা গরু বাজারজাত নিয়ে শঙ্কিত ছিল সবাই। কোরবানির বাজার প্রথম থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত বাজারে ক্রেতা বলতেই ছিল না। ফলে গো-খামারিরা ভেঙে পড়েছিল। কথায় বলে ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’ এবার তাই প্রমাণ হয়েছে। গত ২৫-৩০ জুলাই উপজেলায় একাধিক পশুহাটে প্রথমে ক্রেতারা লাভবান হলেও শেষ সময়ে এসে গরুর দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতারাও বেশ লাভবান হয়েছে। বাজারে সমতলের প্রচুর ক্রেতা সমাগম হওয়ায় খামারি ও গরু ব্যবসায়ীর প্রাণে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মাঝারি খামারী শিক্ষক লুৎফর রহমান ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল কাদের বলেন, কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় শিক্ষকতা ও জনসেবার পাশাপাশি রাখ লাখ টাকার পুঁজি বিনিয়োগ করে খামার সাজিয়েছি। এবার কোরবানির বাজারের শুরুটা ভালো ছিল না। ফলে দারুণ দুঃশ্চিতায় ভুগছিলাম। শেষমেষ বেশি লাভবান হতে না পারলেও অন্তত পুঁজিতে হোঁচট লাগেনি। ক্রেতাবান্ধন বাজার থাকায় ‘করোনা’র দূর্যোগে ক্রেতা-বিক্রেতা মোটামুটি সবাই খুশি।

বিশেষ করে ‘করোনা’র প্রাদুর্ভাবে এবার উপজেলার ডেইরি খামার সংশ্লিষ্ট মালিক ও কৃষক পবিরারগুলো নিয়ে সর্বত্র মানুষজন, প্রশাসন আতঙ্কে ছিল। এছাড়া গো-খামারিদের পাশে থেকে সর্বত্র সহযোগিতা দিয়েছে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদফতর ভ্যাটেনারি সার্জন ও প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা। প্রতিনিয়ত খামারিদের দ্বারে দ্বারে খোঁজ-খবর রাখা, অসুস্থ গরু-ছাগলের সেবা, খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান, উপকরণ বিতরণসহ ডেইরি ফার্ম বান্ধব সেবাদানে সবার সহযোগিতায় সকল উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ, আতঙ্ক কাটিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে উপজেলার কোরবানির পশুহাটের জমজমাট আসর।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা ডেইরি ফার্ম মালিক সমিতির সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেইরী ফার্ম মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডেইরি ফার্ম। দীর্ঘদিন দোকান-পাট, হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় হাজার হাজার টন দুধ অবিক্রিত থাকায় খামারিরা নিঃস্ব হয়েছে! এছাড়া কোরবানিকে ঘিরে মোটাতাজা গরু নিয়ে সবাই দুঃশ্চিন্তায় ছিল। অনেকে আগেভাগে কমদামে গরু বাজারজাত করেছে। শেষ সময়ে যারা ঝুঁকি নিয়ে ধৈর্য্য ধরে গরু বিক্রি করেছে তারা মোটামুটি লাভবান হয়েছে। আর বড় খামারিরা ভালো সুবিধা করতে পারেনি। কারণ বড় গরুর ক্রেতা ছিল কম। তারপরও আলহামদুলিল্লাহ সবার দোয়ায় ডেইরি খামারিরা মরার পথ থেকে বেঁচে গেছে। এ খাতে সরকারের সহযোগিতা ফেলে পাহাড়ে ডেইরি খামার সংশ্লিষ্ঠরা দেশের অর্থনীতিতে বেশ অবদান রাখতে পারবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English