বরিশালের উজিরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলা ও শ্লীলতা হানির ঘটনায় মামলার আসামীরা জামিনে এসে বাদীর পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভূক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ৫ আগষ্ট দক্ষিণ সাতলা গ্রামের কুদ্দুস শাহ এর ছেলে সোহাগ শাহ (২৬) বাদী হয়ে একই গ্রামের সাজন ওরফে মেহেদী (৩০), মোস্তফা হাওলাদার (৪০), হাবিবুর রহমান বিশ্বাস (৬০), আতিয়ার বিশ্বাস (৪৫), আল আমিন বিশ্বাস (৪০), রিয়াজ বিশ্বাস (৩৫), মুরাদ বিশ্বাস (২৫), রত্না বেগম (৪০) সহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে উজিরপুর মডেল থানায় ১০/১৯৬ একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় মেহেদী হাওলাদারকে ৬ আগষ্ট শুক্রবার পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
৯ আগষ্ট প্রধান আসামী সাজন মেহেদীসহ সকলে আদালত থেকে জামিন হয়। ওই রাতে সোহাগ শাহ’র বসত বাড়িতে ঢুকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। হুমকির মুখে আতঙ্কে বাদীর পরিবার। উল্লেখ্য, ২ আগষ্ট আসামীরা সোহাগ শাহ’র বসত বাড়িতে ঢুকে হামলা ও লুটপাট চালায়। প্রতিবাদ করতে গিয়ে জাকিয়া বেগম হামলার শিকার হয়। ডাক চিৎকার করলে কাপড় টানা হেচড়া করে তার শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং নগদ অর্থ, বসতঘর ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে প্রতিপক্ষরা।
ভূক্তভোগী সোহাগ শাহ জানান, সাজন মেহেদীর চাচা আবু তালেবের নিকট থেকে আমি আমার প্রবাসী স্ত্রী তানিয়া আফরিনের নামে সাফ কবলা দলিল মূলে সম্পত্তি ক্রয় করে উক্ত জমিতে বসতঘর নির্মাণ করে আমিসহ আমার শাশুড়ী বসবাস করে আসছি। ওই প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা আমাদের দলিলকৃত ভোগ দখলীয় বসতবাড়ি দখলের মিশনে নেমেছে। অন্যায়ভাবে জোর পূর্বক জমি দখল করার জন্য সাজন মেহেদী গংরা এ তান্ডব চালায় এবং মারধর ও শ্লীলতাহানি করে নগদ অর্থসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে ৬ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। আসামীরা জামিনে বাড়িতে এসেই আমাদের পরিবারকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও জমি থেকে উৎখাত করার হুমকি দেয়।
অভিযুক্ত মেহেদী জানান, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে থাকা ঘরে আমরা অবস্থান করছি। অন্যকারো জমি দখল করতে যাইনি। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে তারা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস,আই কামাল হোসেন ১০ আগষ্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন প্রবাসীর পরিবার।