বরিশালের হিজলায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে হিজলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক খান বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। এতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি সাড়ে ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়।
হিজলা থানার ওসি অসীম কুমার সিকদার জানান, ১৫ ডিসেম্বর রাতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরা। ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং সাড়ে ৪০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে হিজলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক খান মামলা করেন।
আসামিদের মধ্যে হিজলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর, সহসাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বড়জালিয়া ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি বশির আহম্মেদ, ছাত্রলীগ নেতা লোকমান সিকদার, কাজল হোসেন রাঢ়ী, জিদান হাওলাদার, যুবলীগ নেতা নিজাম সরদারের নাম রয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের অনুসারী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোলায়মান হোসেন শান্ত উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগমের ছেলে নাইমের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলে খুন্না বন্দর থেকে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। এ সময়ে খুন্নাগোবিন্দপুর এলাকায় প্রতিপক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ টিপুর অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে শান্ত ও নাইম আহত হন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহত দুই জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পাশাপশি তাদের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে পঙ্কজ দেবনাথের অনুসারীরা জড়োহয়ে হয়ে টিপুর অনুসারীদের উপর হমালা করলে উভয় পক্ষেরমধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে ও পাঁচটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
সংঘর্ষের ঘটনায় হিজলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম তারেক ও চার পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন। ভাঙচুর করা হয় পাঁচটি মোটরসাইকেল। আহত পুলিশ সদস্যদের দুই জনকে হিজলা এবং এক জনকে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।