শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন

হেদায়েত ও মুক্তির মাধ্যম হোসাইন

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫০ জন নিউজটি পড়েছেন

আহলে বাইত পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে। একটি হল আহল আর অপরটি বাইত। দুটি শব্দই আরবি ভাষা থেকে এসেছে।

আহল শব্দটির অর্থ পরিবার, পরিজন, অপানজন, জ্ঞাতি, বাসিন্দা, অধিবাসী, অধিকারী ইত্যাদি। আর বাইত অর্থ ঘর। সুতরাং ঘরের অধিবাসী।

ইসলামী পরিভাষায় আহলে বাইত বলতে মাহানবী (সা.)-এর ঘরের ওইসব বাসিন্দাদের বোঝায় যাদের বিশেষ মর্যাদার মানদণ্ডে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অনন্যতা প্রদান করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, আর তোমরা তোমাদের ঘরে অবস্থান করো, পূর্ববর্তী জাহেলি যুগের নারীদের মতো তোমরা নিজেদের সজ্জিত করে প্রদর্শন করে বেড়িও না। আর তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত থাক।

হে আহলে বাইত! নিশ্চয়-ই আল্লাহ কেবল চান, তোমাদের থেকে সব ধরনের কলুষতা দূর করে পূত-পবিত্র করতে। (সূরা আল আহযাব : ৩৩)।

আলোচ্য আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন আহলে বাইতকে সব অপবিত্রতা থেকে রক্ষা করার এবং তাদের পূত-পবিত্র রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বস্তুত সঠিকভাবে পবিত্রতাই হল আহলে বাইতের মানদণ্ড।

আর মহান আল্লাহ নিজ দায়িত্বে আহলে বাইতের পবিত্রতা রক্ষার কারণ হল, আহলে বাইতকে মুসলিম উম্মাহর জন্য হেদায়েত ও মুক্তির মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে কে কে আহলে বাইতের অন্তর্র্ভুক্ত সে বিষয়ে আলোকপাত করা না হলে নবী করিম (সা.) বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যা অনেক বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

হজরত উম্মে সালমা (রা.) একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যখন সূরা আহযাবের ৩৩নং আয়াতটি নাজিল হল তখন নবী করিম (সা.) হজরত ফাতেমা, হাসান, হোসাইন (রা.) কে ডাকলেন এবং তাদের একটি চাদরে আবৃত করে নিলেন।

হজরত আলী (রা.) ছিলেন তাদের পেছনে, তিনি তাকেও চাদরে আবৃত করে নিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! এরাই হল আমার আহলে বাইত। এদের থেকে তুমি সব অপবিত্রতা দূরে রাখ এবং এদের তুমি পরিপূর্ণভাবে পবিত্র করে দাও।

তখন হজরত উম্মে সালমা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল : আমিও কি এদের মদ্যে অন্তর্ভুক্ত? জবাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) শুধু বললেন, তুমি আমার কাছে মর্যাদাবান এবং তুমি উত্তমের ওপরেই আছ। (জামে তিরমিযি, হাদিস : ৩৭৮৭)।

বহু সংখ্যক বিশুদ্ধ হাদিসে প্রমাণিত যে রাসূলে করিম (সা.)-এর আহলে বাইত বলতে হজরত আলী, হজরত ফাতেমা, হজরত হাসান ও হজরত হোসাইনকে বুঝায়। এ চারজনের বাইরে অন্য কাউকে আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই।

আহলে বাইত হলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরে উম্মতের জন্য হেদায়েত ও মুক্তির সুনির্দিষ্ট মাধ্যম। হজরত আবু সাইদ খুদরী (রা.) একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, অচিরেই আমি আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দিয়ে চলে যাব (ইন্তেকাল করব)।

আর আমি নিশ্চয় তোমাদের মাঝে দুটি ভারী জিনিস রেখে যাচ্ছি একটি হল আল্লাহর কিতাব আর দ্বিতীয়টি আমার আহলে বাইত। আল্লাহর কিতাব হল, আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত প্রলম্বিত সূদৃঢ় রশি।

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন, এ দুটি জিনিস কিয়ামতের দিন আমার সঙ্গে হাউজে কাওসারে মিলিত হওয়ার আগে বিচ্ছিন্ন হবে না। সুতরাং তোমরা আমার অবর্তমানে এ দুটি জিনিসের বিষয়ে কেমন আচরণ করবে ভেবে দেখ। (মুসনাদে আহম্মদ, হাদীস: ১১১৩১)।

আলোচ্য হাদিসে আহলে বাইতের ভালোবাসা ও তাদের আনুগত্যের মাধ্যমে উম্মতের হেদায়েত ও মুক্তির বিষয়টি আল্লাহর রাসূল (সা.) স্পষ্ট ভাষায় বিবৃত করেছেন। অন্য এক হাদিসে আহলে বাইতের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও তাদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনে ইমানের খাতরার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

হজরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ছয় শ্রেণির মানুষকে আমি অভিশাপ করেছি, তাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত দিয়েছেন এবং পূর্ববর্তী সব নবীর অভিশাপ তাদের ওপর। আর তারা হল- (১) আল্লাহর কিতাবে সংযোজনকারী (২) আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্যকে অস্বীকারকারী (৩) মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর ওপর শক্তি প্রর্দশনকারী। যে তার শক্তিতে আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেছেন তাকে সম্মানিত করতে এবং আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেছেন তাকে লাঞ্ছিত করতে চায় (৪) আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিষেধ করা জিনিসকে হালাল বানাতে চায় (৫) যে ব্যক্তি আমার আহলে বাইতের লাঞ্ছনা ও তাদের হত্যা করাকে বৈধ মনে করে অথচ মহান আল্লাহ হারাম করেছেন। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে বর্জন করে। (জামে তিরমিযি, হাদিস : ২১৫৪)।

উম্মতে মোহাম্মাদীর কাছে আশুরার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় আহলে বাইত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সৃষ্টির আদি থেকে অনুসন্ধান করলে আশুরাকেন্দ্রিক বহু স্মরণীয় ঘটনার সন্ধান মেলে।

কিন্তু ৬১ হিজরি ১০ মহররম ১০ অক্টোর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের কারবালা প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর সপরিবারে শাহাদাত মুসলিম উম্মাহর জন্য সর্বাধিক গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে আর আগের সব ঘটনা শুধু ইতিহাসের পর্যায় থেকে যায়।

কারণ উম্মতে মোহাম্মাদী হিসেবে আমাদের জন্য আহলে বাইত হেদায়েত ও মুক্তির মাধ্যম। সুতরাং বক্তৃতা, বিবৃতি, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে আহলে বাইতকে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা নিয়ে তাদের আদর্শ ধারণ করলেই কেবল রাসূলের ধর্ম জিন্দা হবে, হিদায়েতের পথ মিলবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English