রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন

২০২১ সালে কি উত্থান থাকবে পুঁজিবাজারে?

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩৮ জন নিউজটি পড়েছেন

বিদায়ী বছরটি ছিল বিশ্বের মানুষের জন্য একেবারেই ভিন্ন। করোনা নামক এক ভাইরাসের ছোবলে জীবিকা হারিয়েছে কোটি কোটি মানুষ। আবার ঘরে থেকে সরকারি প্রণোদনা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে অনেককে। তবে এর মাঝেও অবাক করেছে বিশ্ব পুঁজিবাজার। মার্চে একটা বড় ধরনের ধস হলেও বছরজুড়ে বেশ ভালো ছিল এই খাত।

বড় বড় সূচকগুলোর যে অবস্থান
করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভবান ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। বছর শেষে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোর দর ব্যাপক বেড়েছে। আর এতে নাসডাক সূচক বেড়েছে ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ বেড়েছে ১৫ শতাংশ।

তবে করোনার ছোবলে জর্জরিত যুক্তরাজ্যের পুঁজিবাজারের ভাগ্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো হয়। তেল কোম্পানি, ব্যাংক ও এয়ারলাইনসের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর ব্যাপক কমায় এফটিএসই ১০০ সূচকটি কমেছে ১৪ শতাংশ। তবে একদম বছরের শেষে এসে কিছুটা স্থিতিশীল ছিল এই পুঁজিবাজার। মূলত ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদন পেয়ে আইনে পরিণত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তিটি কার্যকর হতে চলেছে—এর প্রভাবই দেখা যায় শেয়ারবাজারে।

অন্যদিকে টিকা আসায় ঘুরে দাঁড়ায় জাপানের পুঁজিবাজার। ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরের ব্যাপক উত্থানে বেশ ভালো ছিল এই পুঁজিবাজার। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন অর্থ তৈরি বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করেছে। চাঙা ছিল ভারতের পুঁজিবাজারও।

নতুন বছরে বিশ্ব শেয়ারবাজার যেমনটা হতে পারে
নতুন বছর যে শঙ্কামুক্ত এমনটা নয়। করোনা নামক ভাইরাস এখনো বিশ্বকে আঘাত করে চলেছে। এর মাঝেও বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু দিক রয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইতিবাচক ট্রেন্ড থাকবে এই আর্থিক বাজারে। এর অন্যতম কারণ হলো ভ্যাকসিন। আশা করা যায় বছরজুড়েই ভ্যাকসিনের কারণে করোনা প্রতিরোধ করাটা কিছুটা সম্ভব হবে। উচ্চ প্রত্যাশার ঝুঁকির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন, মনস্তাত্ত্বিক হিসেবে ঊর্ধ্বমুখী দিকটিই প্রকাশ করছে। যেমন এ বছর প্রযুক্তিভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক সূচক বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এই সূচকের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো হলো গুগলের অ্যালফাবেট, অ্যাপল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও ফেসবুক। তো এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা থাকবে।

ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক জন জেনিংস বলেন, ২০২১ সালে বাজার কী কী রকম হবে, সে বিষয়ে আমার পূর্বাভাস ২০২০ সালের মতোই। এটি ঊর্ধ্বমুখী থাকবে আবার নিম্নমুখীও হবে। জন মনে করেন, এই ধরনের অনির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী অসন্তুষ্টিজনক, তবে এটি প্রায় সুনির্দিষ্ট। এর চেয়ে আরও সুনির্দিষ্ট মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের পথভ্রষ্ট করতে পারে।

সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক জিন মুনস্টার বলেন, ২০২০ সালে পুঁজিবাজার কোন প্রবাহে ছিল, তা খুঁজে পেতে বিনিয়োগকারীদের পৃথক প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর দিকে গভীর মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অ্যাপল এবং অ্যামাজন উভয়ের শেয়ারের দর বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ, নেটফ্লিক্স বেড়েছে ৭০ শতাংশ, অন্যদিকে ফেসবুক, অ্যালফাবেটের শেয়ারের দর বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

মুনস্টার মনে করেন, ২০২০ সালে বিজ্ঞাপননির্ভর প্রযুক্তিগুলো তেমন লাভ করতে পারেনি। যেমন গুগল ও ফেসবুক। মুনস্টার জানিয়েছেন, ২০২১ সালে সবচেয়ে ভালো করতে পারে অ্যাপল। ৫১ শতাংশ দর বাড়তে পারে। আর এর ফলে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হতে পারে অ্যাপল।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English